ছুটির দিনে পাখির হাট, খালি শপুর,খুলনা
প্রতি শুক্রবার খুলনার খালি শপুরপৌর সুপার মার্কেট এলাকায় দেখা যায় অন্যরকম চিত্র। ছুটির দিনের নির্জীব সকাল মুখর হতে শুরু করে ৮টা থেকে। এর পর দিনভর শোনা যায় পাখির কিচিরমিচির। সপ্তাহের অন্য ছয় দিন গাড়ির হর্ন আর যান্ত্রিক শব্দে বিরক্ত মানুষকে একদিনের জন্য কিছুটা খেয়ালি করে তোলে পাখিগুলো। কারণ সপ্তাহের একটি দিনেই নানা রঙের পাখির মেলা বসে মার্কেটের পাশের ওই সড়কে। এটিই খুলনার সবচেয়ে বড় পাখির হাট।এলাকাবাসী জানান, প্রতি শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে এ হাট বসে। সেখানে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাখিপ্রেমীরা ছুটে আসেন। আগে একটি সড়কে হাট বসলেও এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের কয়েকটি সড়কে। নিজেদের চলাচলে সমস্যা হলেও এ হাট নিয়ে খুশি স্থানীয়রা।
গত শুক্রবার সকালে পাখির হাটে গিয়ে দেখা যায়, খালিশপুর বিআইডিসি রোড ধরে চিত্রালী বাজার পৌর সুপার মার্কেট সড়কের পাশে সড়কে বসেছে হাটটি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল ১০টার মধ্যে সেখানে বিক্রেতার সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। হাটে আনা পাখির মধ্যে বেশিরভাগই ছিল বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর। ছিল টিয়া, ময়না, শালিক, ঘুঘু, প্রিন্স, কাজলিও। এ ছাড়া টার্কি, চিনা হাঁসসহ বিভিন্ন পাখির বাচ্চাও হাটে এনেছেন বিক্রেতারা। তারা জানান, সব পাখিই গৃহপালিত।
নগরীর বৈকালী বাজার এলাকা থেকে কবুতর এনেছিলেন মো. আসাদ। তিনি সমকালকে জানান, তিন বছর ধরে তিনি নিয়মিত এ হাটে আসেন। হাটে রেসিং হোমার, মদিনা কিং ও গিরিবাজ কবুতর এনেছেন। সবই তার বাড়িতে পালন করা হয়। এর মধ্যে হোমার ও মদিনা কিং জোড়া দুই হাজার এবং গলাকাটা গিরিবাজ দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা থেকে টিয়া, ময়না ও ডাহুক পাখি নিয়ে এসেছিলেন ইউসুফ আলী। যশোরের অভয়নগর এলাকার হারুনুর রশীদ জানান, গত তিন বছর তিনি নিয়মিত এ হাটে আসেন। বিভিন্ন প্রজাতির মুরগির বাচ্চা বিক্রি করেন তিনি। এর মধ্যে তিন-চার মাস বয়সী টার্কি মুরগি তিন হাজার টাকা এবং চীনা মুরগি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রির আশা তার। হাটে কবুতর কিনতে এসেছেন নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসান ইমাম চৌধুরী ময়না। তিনি বলেন, বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে কবুতর পালেন। তাই কবুতর কেনার জন্য হাটে এসেছেন।
ঘুরে দেখা গেল, হাটে ছোট প্রিন্স পাখি নজর কাড়ছে সবচেয়ে বেশি। এগুলোর দাম ছিল প্রতি জোড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। ধূসর রঙের কাজলি এক জোড়া পাখির দাম ৫০০ টাকা।
সাদা রঙের ছোট ডায়মন্ড রোপের দাম এক থেকে দেড় হাজার টাকা জোড়া। লাভ বার্ডের দাম আট হাজার টাকা জোড়া।
কবুতরের মধ্যে দেশি জাতের তুলনায় বিদেশিগুলোর দাম বেশি। প্রতি জোড়া ইয়োলো কিং চার হাজার টাকা, হাউস পিজন আট থেকে ১০ হাজার, বল কবুতর সাত থেকে আট হাজার এবং পিন ছয় থেকে আট হাজার টাকা। এ ছাড়া জালালি কবুতর ৮০০ থেকে এক হাজার এবং লক্ষা আড়াই থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
স্থানীয় ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারুক হিলটন সমকালকে বলেন, পাখির হাটটি নিয়ে এলাকার সবাই খুব খুশি। এখানে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। অনেক দামি পাখি ও কবুতর বিক্রি হয়। গত সপ্তাহে দেড় লাখ টাকা দামের পাখিও আনা হয়েছিল। তিনি বলেন, তিন বছর ধরে রাস্তার ওপরই হাট বসছে। হাটটি স্থায়ী করার জন্য সিটি মেয়রকে বলা হয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের সিনিয়র ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রেজাউল ইসলাম সমকালকে বলেন, সিটি মেয়রের নির্দেশে আমরা পাখির হাট ঘুরে দেখেছি। হাটে ২৫০ থেকে ৪০০ বিক্রেতা বসেন। চিত্রালী বাজারের আশপাশে তাদের জন্য স্থায়ী একটি হাট বসানোর চেষ্টা চলছে।

No comments