তেঁতুলতলায়,যশোর, কবুতরের হাট
যশোরের রেলগেট তেঁতুলতলা। সপ্তাহের ছয় দিন এক রকম, কিন্তু শুক্রবারটা থাকে অন্য রকম। কবুতর নিয়ে দিনভর চলে আরাধনা। বয়সে ওরা যুবক, সবাই শিক্ষিত। ওরা দেশি-বিদেশি নানা জাতের কবুতর নিয়ে চলে আসে এই হাটে। হাজার হাজার টাকার হাঁকডাক। বাহারি সব কবুতর বিক্রি হচ্ছে দেদার। কবুতর বেচাকেনার সুবিধার জন্য শহরের রেলগেট তেঁতুলতলাকে ওই যুবকরাই নাম দিয়েছে কবুতরের হাট। সরেজমিন শুক্রবার ঘুরে দেখা গেছে, শহরের রায়পাড়া, চাঁচড়া, শংকরপুর, পুরাতন কসবা, মিশনপাড়াসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে শৌখিন চাষিরা কবুতর নিয়ে হাটে এসেছে। মাহফুজ জামান, মহেমেনুল হক ও লিটন হোসেন এই তিন শিক্ষিত যুবকই কবুতর হাটের উদ্যোক্তা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাটে কালো র্যান্ট কবুতর এক জোড়া ১০ হাজার টাকা, চন্দন এক জোড়া এক হাজার ৫০০ টাকা, লক্ষা দুই হাজার ৫০০ টাকা, সিরাজী বিস্কুট কালার ১০ হাজার টাকা, হেনা এক জোড়া এক লাখ টাকা, রেসিং হোমার দুই হাজার টাকা, ঘিয়ে চুলি্ল দুই হাজার টাকা, ইংলিশ ৩০ হাজার টাকা, স্পেঞ্জার ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ও হলুদ পোটার ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জানা যায়, যশোরসহ আশপাশের এলাকায় যে কবুতর উৎপাদন হচ্ছে তা খুবই উন্নত জাতের। কবুতরের পাশাপাশি হাটে আরো বিক্রি হয় কবুতর পোষার সরঞ্জাম ও খাবার। পুরনো কসবা এলাকা থেকে এক জোড়া সিরাজী কবুতর বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন তুহিন। তিনি বললেন, 'আমার কবুতরের ১০ হাজার টাকা দাম উঠেছে। কিন্তু ১২ হাজার টাকার নিচে কবুতর বিক্রি করব না।' শৌখিন কবুতর চাষি মাহবুব জানান, বর্তমানে যশোরের বিভিন্ন এলাকায় শৌখিন কবুতর চাষিরাই হাটে কবুতর কেনাবেচার জন্য আসছেন। এ এলাকায় অনেকে বাণিজ্যিকভাবে কবুতর লালন-পালন করে প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করছেন। উদ্যোক্তরা বলেন, 'শৌখিন কবুতর চাষিদের সুবিধার জন্য কিছুদিন আগে এ হাট চালু করা হয়েছে। অনেকে হাটে এসে কবুতর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। নিজেদের মধ্যে অনেকে পছন্দমতো কবুতর বদল করছেন। আমরা আশা করছি, এক সময় এ হাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাষিরা এসে কবুতর কেনাবেচা করবে।'

No comments